দৈর্ঘ্যে-প্রস্তে বয়স অনেকখানি বেড়েছে। খেলার গতিও কমে গেছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো হয়ত আগের মতো অনায়াসেই কাটিয়ে যেতে পারবেন না প্রতিপক্ষের দুচার জনকে। পুরো দলকে একার কাঁধে টেনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও হয়ত হারিয়েছেন। কিন্তু স্বপ্নের পথে শরীর কি আর বাধা দিতে পারে!
রোনালদোর সামনে সেই বাধা টপকানোর শেষ সুযোগ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। ফুটবল ইতিহাসে যার নাম উচ্চারণ করলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে গোল, ট্রফি আর অসাধারণ সব মুহূর্ত। সেই রোনালদো এখন অনেক পরিণত। ৪১ বছর বয়সে অবিশ্বাস্যভাবে আবারও বিশ্বমঞ্চে। ক্লাব ক্যারিয়ারে সব ট্রফি জিতেছেন সিআরসেভেন। দেশের জার্সিতে ইউরো এবং উয়েফা নেশনস লিগ জিতেছেন। আধুনিক ফুটবলের বড় প্রতীক হয়েছেন। কিন্তু বড় এক শূন্যতা আছে। বিশ্বকাপ। সেই অপূর্ণতা পূর্ণ করার মিশনে কোনো ছাড় দিতে চান না রোনালদো।
গত বিশ্বকাপে মরক্কোর কাছে হেরে বিদায়ের পর রোনালদোর সেই কান্নার কথা মনে আছে? অনেকে ভেবেছিলেন কিংবদন্তির বুঝি বিদায় হলো, সেটি হয়নি। রোনালদো প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছা থাকলে বয়স বাধা হতে পারে না। রোনালদোর আক্ষেপ পূরণের স্বপ্নযাত্রায় তার ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখেছেন পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। এবার দায়িত্ব আরও বড়। সমালোচনা, বয়স বিতর্ক আর তারুণ্যের ভিড়ে রোনালদো যেন চির তরুণ। পর্তুগালের এবারের দলটি রোনালদোর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন। কিংবদন্তি এই সুযোগ নিতেই পারেন!
পর্তুগিজদের মাঝমাঠে ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা, ভিতিনহার পায়ের জাদু আর রক্ষণভাগে রুবেন দিয়াস কিংবা নুনো মেন্ডেসের শক্তপোক্ত দেয়াল। ফরোয়ার্ড লাইনে রাফায়েল লিও আর জোয়াও ফেলিক্সের রসায়ন। আর এই দুর্দান্ত দলটির কেন্দ্রে দাড়িয়ে রোনালদো। যিনি এখন শুধুই অধিনায়ক নন, খেলোয়াড় ছাপিয়ে তিনি পর্তুগালের জীবন্ত প্রেরণা।
২০০৬ থেকে লাগাতার বিশ্বকাপে খেলেছেন। কিন্তু সাফল্য ধরা দেয়নি রোনালদোকে। দেশের হয়ে সাফল্য বলতে ২০১৬ সালে ইউরো কাপ জয়। কিন্তু যত দিন না বিশ্বকাপ জিততে পারছেন, তত দিন কিংবদন্তির আসনে বসতে পারছেন কই। কিংবদন্তিরা বোধহয় বিতর্ক পছন্দ করেন না, সমকক্ষ যদি কেউ থাকলই তবে সেরা হওয়া তো হলো না!
সেরা হওয়ার দৌড়ে রোনালদো ভালোই শুরু পেয়েছিলেন। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল পর্তুগাল। তার পর থেকে বিশ্বকাপের নক আউটে মাত্র একটি ম্যাচই জিতেছে পর্তুগাল। ২০২২ সালের শেষষোলোয় সুইজদের হারিয়েছিল সিআরসেভেনের দল। রেকর্ড ৬ বার বিশ্বকাপ খেলা রোনালদোর আরেকটি আক্ষেপ আছে, নক আউটে গোল নেই তার। বিশ্বকাপে অবশ্য আট গোল করেছেন। এবার নিশ্চয়ই সেই ফাড়াও কাটবে।
২০১০ বিশ্বকাপে রোনালদো চেষ্টা করেছেন, গোল করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন—তবুও দল থেমে যায় আগেভাগেই। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ ছিল আরও হতাশার, চোট ও দলীয় দুর্বলতা পর্তুগালকে গ্রুপ পর্বেই আটকে দেয়। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে আশা ছিল, কিন্তু শেষ ষোলোতেই থেমে যায় যাত্রা। কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টারে থেমে কাঁদে রোনালদো। বয়স, সমালোচনা কিংবা ব্যর্থতা—কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারেনি। এবার নতুন স্বপ্ন, নতুন উদ্যোম।
দেশের জার্সিতে ২২৬ ম্যাচ খেলা রোনালদো কয়েকদিন আগে বলেছেন, ‘৪১ বছর বয়স হয়েছে, এবার শেষ করার সময় এসেছে।’ অধরা সোনালী ট্রফিটি ছুঁয়ে দেখার জন্য এটাই হয়ত হতে যাচ্ছে তার শেষ সুযোগ।
ফুটবলকে বলা হয় নিষ্ঠুর সুন্দর খেলা। কারও জন্য শেষ বাঁশি হয় ‘বিষের বাঁশি’। কারও জন্য আনন্দ রাশি-রাশি। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এবার রোনালদোর আনন্দঅশ্রু ঝড়ুক।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
দৈর্ঘ্যে-প্রস্তে বয়স অনেকখানি বেড়েছে। খেলার গতিও কমে গেছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো হয়ত আগের মতো অনায়াসেই কাটিয়ে যেতে পারবেন না প্রতিপক্ষের দুচার জনকে। পুরো দলকে একার কাঁধে টেনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও হয়ত হারিয়েছেন। কিন্তু স্বপ্নের পথে শরীর কি আর বাধা দিতে পারে!
রোনালদোর সামনে সেই বাধা টপকানোর শেষ সুযোগ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। ফুটবল ইতিহাসে যার নাম উচ্চারণ করলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে গোল, ট্রফি আর অসাধারণ সব মুহূর্ত। সেই রোনালদো এখন অনেক পরিণত। ৪১ বছর বয়সে অবিশ্বাস্যভাবে আবারও বিশ্বমঞ্চে। ক্লাব ক্যারিয়ারে সব ট্রফি জিতেছেন সিআরসেভেন। দেশের জার্সিতে ইউরো এবং উয়েফা নেশনস লিগ জিতেছেন। আধুনিক ফুটবলের বড় প্রতীক হয়েছেন। কিন্তু বড় এক শূন্যতা আছে। বিশ্বকাপ। সেই অপূর্ণতা পূর্ণ করার মিশনে কোনো ছাড় দিতে চান না রোনালদো।
গত বিশ্বকাপে মরক্কোর কাছে হেরে বিদায়ের পর রোনালদোর সেই কান্নার কথা মনে আছে? অনেকে ভেবেছিলেন কিংবদন্তির বুঝি বিদায় হলো, সেটি হয়নি। রোনালদো প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছা থাকলে বয়স বাধা হতে পারে না। রোনালদোর আক্ষেপ পূরণের স্বপ্নযাত্রায় তার ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখেছেন পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। এবার দায়িত্ব আরও বড়। সমালোচনা, বয়স বিতর্ক আর তারুণ্যের ভিড়ে রোনালদো যেন চির তরুণ। পর্তুগালের এবারের দলটি রোনালদোর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন। কিংবদন্তি এই সুযোগ নিতেই পারেন!
পর্তুগিজদের মাঝমাঠে ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা, ভিতিনহার পায়ের জাদু আর রক্ষণভাগে রুবেন দিয়াস কিংবা নুনো মেন্ডেসের শক্তপোক্ত দেয়াল। ফরোয়ার্ড লাইনে রাফায়েল লিও আর জোয়াও ফেলিক্সের রসায়ন। আর এই দুর্দান্ত দলটির কেন্দ্রে দাড়িয়ে রোনালদো। যিনি এখন শুধুই অধিনায়ক নন, খেলোয়াড় ছাপিয়ে তিনি পর্তুগালের জীবন্ত প্রেরণা।
২০০৬ থেকে লাগাতার বিশ্বকাপে খেলেছেন। কিন্তু সাফল্য ধরা দেয়নি রোনালদোকে। দেশের হয়ে সাফল্য বলতে ২০১৬ সালে ইউরো কাপ জয়। কিন্তু যত দিন না বিশ্বকাপ জিততে পারছেন, তত দিন কিংবদন্তির আসনে বসতে পারছেন কই। কিংবদন্তিরা বোধহয় বিতর্ক পছন্দ করেন না, সমকক্ষ যদি কেউ থাকলই তবে সেরা হওয়া তো হলো না!
সেরা হওয়ার দৌড়ে রোনালদো ভালোই শুরু পেয়েছিলেন। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল পর্তুগাল। তার পর থেকে বিশ্বকাপের নক আউটে মাত্র একটি ম্যাচই জিতেছে পর্তুগাল। ২০২২ সালের শেষষোলোয় সুইজদের হারিয়েছিল সিআরসেভেনের দল। রেকর্ড ৬ বার বিশ্বকাপ খেলা রোনালদোর আরেকটি আক্ষেপ আছে, নক আউটে গোল নেই তার। বিশ্বকাপে অবশ্য আট গোল করেছেন। এবার নিশ্চয়ই সেই ফাড়াও কাটবে।
২০১০ বিশ্বকাপে রোনালদো চেষ্টা করেছেন, গোল করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন—তবুও দল থেমে যায় আগেভাগেই। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ ছিল আরও হতাশার, চোট ও দলীয় দুর্বলতা পর্তুগালকে গ্রুপ পর্বেই আটকে দেয়। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে আশা ছিল, কিন্তু শেষ ষোলোতেই থেমে যায় যাত্রা। কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টারে থেমে কাঁদে রোনালদো। বয়স, সমালোচনা কিংবা ব্যর্থতা—কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারেনি। এবার নতুন স্বপ্ন, নতুন উদ্যোম।
দেশের জার্সিতে ২২৬ ম্যাচ খেলা রোনালদো কয়েকদিন আগে বলেছেন, ‘৪১ বছর বয়স হয়েছে, এবার শেষ করার সময় এসেছে।’ অধরা সোনালী ট্রফিটি ছুঁয়ে দেখার জন্য এটাই হয়ত হতে যাচ্ছে তার শেষ সুযোগ।
ফুটবলকে বলা হয় নিষ্ঠুর সুন্দর খেলা। কারও জন্য শেষ বাঁশি হয় ‘বিষের বাঁশি’। কারও জন্য আনন্দ রাশি-রাশি। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এবার রোনালদোর আনন্দঅশ্রু ঝড়ুক।
